Preview
প্রশ্ন করুন
রিলেটেড কিছু বিষয়

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

Preview রক্তে লবণের মাত্রা কম-বেশি হলে কি কেউ জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে?

*রক্ত* *লবণ* *অজ্ঞান* *স্বাস্থ্যতথ্য* *হেলথটিপস*
( ৩ টি উত্তর আছে )

( ৯৮৭ বার দেখা হয়েছে)

Lutfun Nessa  সবই অনিশ্চিত, মরিব এটা নিশ্চিত:(

মহাগুরু

লবণের মূল উপাদান হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড! যার পরিমার রক্তে কম বা বেশি হলে দুটিই ক্ষতিকর! যেমন লবন বা সোডিয়ামের পরিমার বেশি হলে শরীর ফুলে যাওয়া সহ উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের ঝঁকি,, এমন কি হার্টের ব্লক,,, স্ট্রোক এবং ত্বকেরও যথেষ্ট ক্ষতির কারণ হচ্ছে এই অতিরিক্ত লবন বা সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি হওয়ার আশংকা রয়েছে! রক্তে লবণের পরিমান বেশী থাকলে যেমন নানাবিধ ঝুঁকি রয়েছে তেমনি প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও রয়েছে নানাবিধ শারীরিক সমস্যার আশংকা যেমন: # মস্তিষ্কের তরলে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।# মাথা ব্যথা, * #দুর্বলতা, # তন্দ্রাচ্ছন্নতা, # চেতনা কমে যাওয়া, # উল্টাপাল্টা আচরণ করা, # মাঝে মাঝে খিঁচুনি হতে পারে, #রোগী অজ্ঞান হতে পারেন বা অনেকসময় কোমায় চলে যেতে পারেন।

আমার মায়ের শরীরে সোডিয়ামের পরিমান কমে গিয়েছিলো যার ফলে সে মারা যাওয়ার ৭-৮ বসর আগেই ভেবেছিলাম তিনি মারা গেছেন!

এক কথায় উত্তর হলো "হ্যা" কারো শরীরে লবণের (সোডিয়ামের) মাত্রা কম/বেশী হলে  জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারেন,,,,

সুস্থ থেকো,,, ভালো থেকো নিরন্তর,,,,, ধন্যবাদ দীপ্তি:) 

মোহাম্মেদ আবুল কাশেম  অত্যান্ত নগন্য মানুষ

মহাগুরু

শরীরে লবণ কম-বেশি হলে

পরমাণু বিজ্ঞানী ও মেডিকেল ফিজিসিস্ট 
 
ইলেকট্রোলাইটস বা তড়িৎবিশিষ্ট হচ্ছে শরীরের মধ্যস্থ কতগুলো খনিজ পদার্থ, যেগুলো মাংসপেশি, স্নায়ু এবং হৃৎপিণ্ড পরিচালনাসহ দেহের বিভিন্ন জটিল প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পরিচালনা করে। এই ইলেকট্রোলাইটসগুলো তরল পদার্থের সামঞ্জস্য বজায় রাখে। চার্জযুক্ত খনিজ পদার্থের এই কণাগুলো বিদ্যুৎ পরিবহনে সহায়তার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন বিক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফেট, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন রূপে কণাগুলো রক্ত, রক্তরস, কোষকলা, মূত্র এবং দেহের অন্যান্য তরল পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান থাকে। 
তরল পদার্থ শরীরে কতটুকু শোষিত হবে বা নিঃসৃত হবে তা নিয়ন্ত্রিত হয় কিডনির সাহায্যে। মল, মূত্র ও ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে তরল পদার্থ বের হয়ে যায়। শরীর সুস্থ রাখার জন্য নির্দিষ্ট মাত্রায় ইলেকট্রোলাইটস তথা তরল পদার্থের প্রয়োজন আছে। আমাদের শরীরে কম বা বেশি ইলেকট্রোলাইটস থাকলে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে, এমনকি তা কখনও কখনও জীবনের জন্য হুমকিও। 
কারণ 
তরল পদার্থের পরিমাণের সামান্য তারতম্য ঘটতে থাকলে শরীরে তেমন কোনো সমস্যা দেখা দেয় না। কোনো কারণে শরীর অতিরিক্ত মাত্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়লে বা কখনও কখনও বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রোলাইটিকের মাত্রা বেড়ে গেলে ভারসাম্যহীনতা থেকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত সোডিয়াম, পটাশিয়াম বা ক্যালসিয়ামজনিত ভারসাম্যহীনতা হতে দেখা যায়। তবে ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’ ধরনের ইলেকট্রোলাইটিক ভারসাম্যহীনতাই বেশি হতে দেখা যায়, যা সোডিয়ামের স্বল্পতা থেকে ঘটে থাকে। সাধারণভাবে কলেরা, ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত মাত্রায় বমি হওয়াকে এ ধরনের অসুস্থতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে উত্তপ্ত আবহাওয়া বা অত্যধিক কায়িক পরিশ্রম, শরীরচর্চা বা রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় খেলাধুলা করার কারণে শরীর অত্যধিক ঘেমে গেলেও শরীরে ইলেকট্রোলাইটসের মাত্রা কমে যেতে পারে। ডায়াবেটিস, কিডনির অসুস্থতা থেকে বেশি বা কম মাত্রায় মূত্র নির্গমণের ফলে, খাদ্যে লবণের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় অধিক বা কম হলে, অ্যাডরিনাল গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসরণের মাত্রা হ্রা পেলে, বেশি মাত্রায় অগ্নিদগ্ধ হলে, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, কেমোথেরাপিক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে এ ধরনের অসুস্থতার কারণ হতে পারে। ক্ষুধামন্দা (অ্যানোরেক্সিয়া), ক্ষুধা বিকৃতি (বুলিমিয়া) দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যেও এ রোগের প্রবণতা বেশি থাকে। উঠতি বয়সী ছেলেমেয়ে, মহিলা এবং বৃদ্ধ ব্যক্তিরা এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। 
সোডিয়ামের আধিক্যকে ‘হাইপারন্যাট্রেমিয়া’ বলে। সোডিয়ামের মাত্রাধিক্যের ফলে রোগী অলসতা ও দুর্বলতা অনুভব করতে থাকে। অতিরিক্ত মাত্রা বৃদ্ধির ফলে অবসাদগ্রস্ততা, অচেতন (কোমা) হয়ে যাওয়া, মনস্তাত্বিক বিশৃংখলা থেকে শুরু করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুর আশংকাও দেখা দেয়। 
বেশি মাত্রায় মদ বা মাদক সেবনের ফলে দেহস্থ মাংসপেশি ভেঙে গিয়ে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। পটাশিয়ামের মাত্রার বৃদ্ধিকে ‘হাইপারক্যালেমিয়া’ এবং স্বল্পতাকে ‘হাইপোক্যালেমিয়া’ বলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকলে শরীরে ইনসুলিন কম উৎপাদিত হয় এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, মাংসপেশিতে দুর্বলতা বা খিঁচুনি, মতিভ্রম ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি কমে গেলে প্যারালাইসিস দেখা দেয়া ছাড়াও হৃদযন্ত্রের সমস্যা থেকে মৃত্যু হতে পারে। পটাশিয়ামের উচ্চমাত্রার কারণেও হৃদযন্ত্রের সমস্যা থেকে মৃত্যু ঘটার আশংকা থাকে। 
ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে গেলে অস্থি সন্ধিগুলোতে অসাড়তা দেখা দেয়, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে ওঠে এবং শরীর দুর্বল লাগে। অতিরিক্ত মাত্রার ক্যালসিয়াম স্বল্পতা থেকে মতিভ্রম এবং খিঁচুনি দেখা দেয় এবং উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম থেকে ক্ষুধামন্দা, বমিভাব, পানিশূন্যতা এবং দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেশি থাকলে রোগী ‘কোমা’য় চলে যেতে পারে এবং মৃত্যুর আশংকা থাকে। 
রোগ-নির্ণয় 
রক্ত এবং মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে ইলেকট্রোলাইটিক ভারসাম্যহীনতা নির্ণয় করা হয়। কিডনিতে কোনো ধরনের সমস্যা আছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য এক্স-রে বা আলট্রাসনোগ্রাফি করা হতে পারে। 
চিকিৎসা 
চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে অসুস্থতার সঠিক কারণ চিহ্নিত করা এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান জরুরি। স্বল্পমাত্রার ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি দেখা দিলে বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে আর আধিক্য দেখা দিলে কমিয়ে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। শাক-সবজি ও ফলমূল সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য ইলেকট্রোলাইটিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পানীয় বা খাদ্যের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের পথ্যও ব্যবহার করা যায়। 
জটিল ক্ষেত্রে শিরার মাধ্যমে ‘স্যালাইন’ বা অন্য কোনো ধরনের ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ তরল প্রয়োগ করা হয়। কখনও কখনও ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে মূত্রের পরিমাণ কমিয়ে বা বৃদ্ধি করেও ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। 
টমেটো এবং কলা ইলেকট্রোলাইটিক ভারসাম্য দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। আপেল, তরমুজ, আনারসও কার্যকর। মিষ্টি আলু, কলা, কমলা, পটাশিয়ামের, পাতাসমৃদ্ধ সবুজ শাক-সবজি ম্যাগনেশিয়ামের এবং দুধ, দই ও কম চর্বিযুক্ত পনির ক্যালসিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। 
প্রতিরোধ 
ব্যায়ামের পর পানি গ্রহণ করার আগে শরীর ঠাণ্ডা করে আনা হলে তা শরীরে পানি ধরে রেখে ইলেকট্রোলাইটিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ম্যাগনেশিয়াম সালফেট মিশ্রিত ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসল করলে তা ত্বকের মাধ্যম্যে সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে। উচ্চমাত্রার শরীরচর্চার ক্ষেত্রে বিশেষ করে খেলোয়াড়দের প্রতি ১৫-২০ মিনিট পরপর পটাশিয়াম ও সোডিয়াম মিশ্রিত পানীয় পান করা উচিত। ডায়রিয়া বা বেশি মাত্রায় বমি হলেও ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় পান করা জরুরি। তবে মাত্রাতিরিক্ত পানীয় পান করার ফলে শরীরে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে পানির আধিক্যজনিত সমস্যা না দেখা দেয় সে ব্যাপারেও লক্ষ রাখতে হবে।


অথবা,